পাসপোর্টের আবেদন কিভাবে করবেন? ই-পাসপোর্ট আবেদন ব্যাংক ড্রাফট করার সম্পূর্ণ নিয়ম
ঘরে বসেই ই-পাসপোর্ট আবেদন ব্যাংক ড্রাফট করার সম্পূর্ণ নিয়ম
বর্তমান সময়ে ই-পাসপোর্ট (e-Passport) করা আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে গেছে। এখন আর দালালের পেছনে টাকা খরচ না করে, আপনি নিজেই মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন এবং ব্যাংক ড্রাফট (এ-চালান) সম্পন্ন করতে পারবেন।
আজকের পোস্টে আমরা ধাপে ধাপে দেখাবো কিভাবে অনলাইনে সঠিকভাবে ই-পাসপোর্টের আবেদন করবেন, বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে ই-পাসপোর্টের ফি বা ব্যাংক ড্রাফট জমা দিবেন এবং আবেদন শেষে পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার জন্য ফাইলটি কিভাবে সাজাবেন।
পাসপোর্ট আবেদন করার পূর্বে ৩টি জরুরি বিষয় খেয়াল রাখুন
আবেদন শুরু করার আগে নিচে দেওয়া ৩টি বিষয় আপনার এনআইডি (NID) কার্ডের সাথে মিলিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন:
পাসপোর্টে আপনার পেশা কী হবে? আপনি যদি কাজের জন্য বিদেশে যেতে চান এবং আপনার এনআইডি সার্ভারে পেশা 'ছাত্র' বা অন্য কিছু লেখা থাকে, তবে বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী আপনাকে পেশা 'Labor/Worker' বা সংশ্লিষ্ট পেশা সিলেক্ট করতে হবে। আর যারা পড়াশোনা করছেন, তারা স্টুডেন্ট কার্ড থাকা সাপেক্ষে 'Student' পেশা দিতে পারেন।
নামে কোনো ডট (Dot) আছে কিনা: আপনার ভোটার আইডি কার্ডে নামের আগে বা মাঝে কোনো ডট (যেমন: MD. MARUF HASAN) থাকা যাবে না। পাসপোর্টে ডট দিলে অনেক সময় ফর্ম জমা নিতে চায় না। তাই ডট ছাড়া নাম (যেমন: MD MARUF HASAN) ব্যবহার করতে হবে।
এনআইডি সার্ভারে কী তথ্য আছে: আপনার এনআইডি কার্ডের অনলাইন সার্ভার কপিতে পেশা এবং নামের বানান যেভাবে আছে, সেটি আগে থেকেই জেনে নেওয়া ভালো।
পার্ট ১: অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়ম
ধাপ ১: ওয়েবসাইটে প্রবেশ ও অ্যাকাউন্ট তৈরি
প্রথমে যেকোনো ব্রাউজার খুলে
epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে যান।আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন, তবে Apply Online বা Directly to online application-এ ক্লিক করুন।
আপনি বাংলাদেশ থেকে আবেদন করছেন কিনা জানতে চাইলে 'Yes' দিন। এরপর আপনার জেলা (যেমন: গাজীপুর) এবং সংশ্লিষ্ট থানা (Police Station) সিলেক্ট করে Continue করুন।
ধাপ ২: ইমেল ভেরিফিকেশন ও পাসওয়ার্ড সেট করা
আপনার সচল একটি ইমেল এড্রেস বসিয়ে ক্যাপচা (I am a human) পূরণ করে Continue করুন।
এবার ৬ সংখ্যার একটি স্ট্রং পাসওয়ার্ড দিন (পাসওয়ার্ডে একটি বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর এবং একটি বিশেষ চিহ্ন যেমন:
@থাকতে হবে)।আপনার নামের প্রথম অংশ (Given Name) এবং শেষ অংশ (Surname) লিখুন।
আপনার মোবাইল নাম্বার দিয়ে Create Account-এ ক্লিক করুন।
আপনার ইমেলে একটি ভেরিফিকেশন লিংক যাবে। ইমেলটি ওপেন করে Click Here-এ ক্লিক করলেই অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভ হয়ে যাবে। (ইনবক্সে মেইল না পেলে Spam ফোল্ডার চেক করুন)।
ধাপ ৩: পাসপোর্ট ফর্ম পূরণ (পেশা ও অন্যান্য তথ্য)
অ্যাকাউন্টে লগইন (Sign In) করার পর Apply for a new passport-এ ক্লিক করুন।
পাসপোর্টের ধরণ Ordinary সিলেক্ট করুন।
নিজের জন্য আবেদন করলে 'Apply for myself'-এ টিক দিন। এরপর আপনার লিঙ্গ (Gender) সিলেক্ট করুন।
পেশা নির্বাচন (Select Profession): যারা কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে যাচ্ছেন তারা কোনো ঝামেলা এড়াতে 'Labor' বা 'Worker' সিলেক্ট করতে পারেন। আর যাদের চাকরি বা ব্যবসার সঠিক ডকুমেন্ট/আইডি কার্ড আছে, তারা Private Service বা Business দিতে পারেন।
এরপর আপনার ধর্ম, জন্মস্থান (জেলা) এবং জন্মতারিখ সিলেক্ট করে Save and Continue দিন।
ধাপ ৪: ঠিকানা ও এনআইডি নম্বর প্রদান
আপনার এনআইডি কার্ডের পেছনে থাকা স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা অনুযায়ী গ্রাম, পোস্ট অফিস এবং থানা সিলেক্ট করুন। বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এক হলে টিক মার্ক দিয়ে দিন।
এবার আপনার এনআইডি (NID) নম্বরটি সঠিকভাবে বসিয়ে দিন। নম্বর দেওয়ার পর স্ক্রিনের বাইরে ক্লিক করলে যদি 'Data found in NID system' দেখায়, তবে বুঝবেন আপনার তথ্য সঠিক আছে।
এরপর পিতা ও মাতার নাম আপনার এনআইডি কার্ড অনুযায়ী হুবহু ইংরেজিতে লিখুন এবং বৈবাহিক অবস্থা (Single/Married) সিলেক্ট করুন।
ইমার্জেন্সি কন্টাক্ট হিসেবে পিতা বা অন্য কোনো অভিভাবকের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর দিন।
ধাপ ৫: পাসপোর্টের পাতা ও মেয়াদ নির্ধারণ
আপনাকে 48 Pages (৪৮ পৃষ্ঠা) এবং 10 Years (১০ বছর) মেয়াদ সিলেক্ট করার পরামর্শ দেওয়া হলো। এতে খরচ ও সময় দুটোই সাশ্রয় হয়।
ডেলিভারির ধরণ Regular Delivery (১৫ কর্মদিবস) সিলেক্ট করুন (যার ফি ৫৭৫০ টাকা)। সব তথ্য শেষবার মিলিয়ে নিয়ে Save and Continue দিন।
পেমেন্ট অপশনে গিয়ে অবশ্যই Offline Payment সিলেক্ট করে ফর্মটি সাবমিট করুন।
ডাউনলোড করুন: আবেদন শেষে আপনার ড্যাশবোর্ড থেকে ১ পাতার Print Summary এবং ৩ পাতার Application Form পিডিএফ (PDF) হিসেবে ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন।
পার্ট ২: বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে এ-চালান (Online Bank Draft) করার নিয়ম
ব্যাংকে লাইনে না দাঁড়িয়ে আপনি ঘরে বসেই পাসপোর্টের ফি পরিশোধ করতে পারবেন।
প্রথমে
https://www.achallan.gov.bd/acs/v2/general/home ওয়েবসাইটে যান।পাসপোর্ট ফি অপশনে ক্লিক করুন।
পাসপোর্টের ধরণ (৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর মেয়াদ এবং ২১ দিন/নরমাল ডেলিভারি) সিলেক্ট করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকার পরিমাণ (৫৭৫০ টাকা) চলে আসবে। পরবর্তী ধাপ-এ ক্লিক করুন।
পেমেন্ট পারসনের জায়গায় 'অন্যান্য' সিলেক্ট করুন।
এরপর আপনার এনআইডি নম্বর, এনআইডি অনুযায়ী নাম এবং সঠিক মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা লিখুন। (এখানে তথ্য ৩ বার মিলিয়ে নিবেন, ভুল হলে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না)।
পেমেন্টের মাধ্যম হিসেবে Mobile Banking থেকে बিকাশ (Bkash) বা নগদ (Nagad) সিলেক্ট করুন এবং সেভ করুন।
আপনার বিকাশ নম্বর দিয়ে ওটিপি (OTP) এবং পিন (PIN) নম্বর দিলেই সরকারি ফি বাবদ নির্ধারিত টাকা (ভ্যাটসহ মোট ৫৭৮০ টাকা) কেটে নেওয়া হবে।
পেমেন্ট সফল হওয়ার সাথে সাথে স্ক্রিনে একটি এ-চালান (Challan) রসিদ চলে আসবে। এটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন।
পার্ট ৩: পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার আগে ফাইল যেভাবে সাজাবেন (সিরিয়াল)
আবেদন এবং ব্যাংক ড্রাফট শেষ হওয়ার পর আপনার কাগজপত্রগুলো নিচে দেওয়া ক্রমানুসারে (Serial) একসাথে স্ট্যাপলার বা ক্লিপ দিয়ে সাজিয়ে ফাইল তৈরি করুন:
অনলাইন এ-চালানের কপি (সবচেয়ে উপরে)
পাসপোর্ট আবেদনের সামারি কপি (Print Summary - ১ পাতা)
অনলাইন আবেদন ফর্ম (Application Form - ৩ পাতা)
আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID Card) ফটোকপি
পিতা ও মাতার এনআইডি কার্ডের ফটোকপি
নাগরিকত্ব সনদপত্র (চেয়ারম্যান/কাউন্সিলর সার্টিফিকেট)
ইউটিলিটি বিলের কপি (গ্যাস/বিদ্যুৎ/পানির বিলের ফটোকপি)
[বিবাহিতদের জন্য]: কাবিননামা বা ম্যারেজ সার্টিফিকেট এবং স্বামী/স্ত্রীর এনআইডি কপি।
[পুরাতন পাসপোর্ট থাকলে]: পূর্ববর্তী পাসপোর্টের ডাটা পেজের ফটোকপি।
এই সাজানো ফাইলটি নিয়ে নির্ধারিত তারিখে আপনার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে চলে যান এবং ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে আসুন।
আমাদের সহযোগিতা পেতে:
আপনার যদি অনলাইন আবেদন করতে বা বিকাশ/নগদের মাধ্যমে এ-চালান কাটতে কোনো সমস্যা হয়, অথবা আমাদের মাধ্যমে প্রফেশনালভাবে আবেদন করিয়ে নিতে চান, তবে আমাদের দোকানে সরাসরি আসতে পারেন অথবা নিচে দেওয়া হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।
যোগাযোগের মাধ্যম: 01911-214727
(বিশেষ অনুরোধ: কোনো কিছু জানার থাকলে দয়া করে এই পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন। শুধুমাত্র আবেদনের কাজের জন্য হোয়াটসঅ্যাপে নক দিবেন।)
পাসপোর্ট সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানান। পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
আপনি চাইলে আমাদের ভিডিও দেখেও কাজটি করতে পারেন। ভিডিও লিংক- https://youtu.be/Zih2MEl0rFc
