অনলাইন জন্মনিবন্ধন সংশোধন আবেদন করার সহজ নিয়ম (বাংলা ও ইংরেজি)

আজকের গাইডে আমরা দেখবো কীভাবে খুব সহজে একটি জন্মনিবন্ধনের ভুল সংশোধন এবং বাংলা তথ্যের পাশাপাশি ইংরেজি তথ্য যুক্ত করার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হয়।

অনেক সময় দেখা যায়, আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) সাথে জন্মনিবন্ধনের নামের মিল থাকলেও বাবার নামের শুরুতে "মোহাম্মদ" বা মায়ের নামের শুরুতে "মুসাম্মত" নিয়ে অমিল থাকে, কিংবা জন্মনিবন্ধনে কোনো ইংরেজি তথ্যই থাকে না। আজকের এই নিয়মটি অনুসরণ করে আপনারা ঘরে বসেই এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারবেন।


প্রথম ধাপ: জন্মনিবন্ধন ওয়েবসাইটে প্রবেশ ও তথ্য অনুসন্ধান

১. প্রথমে জন্মনিবন্ধনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

২. মেনুবার থেকে "জন্মনিবন্ধন" অপশনটির ওপর কার্সার (তির) রাখলে একটি ড্রপডাউন মেনু আসবে। সেখান থেকে "জন্মনিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদন" অপশনটিতে ক্লিক করুন।

৩. নতুন একটি পেজ আসবে। সেখানে আপনার ১৭ ডিজিটের জন্মনিবন্ধন নম্বর, জন্মতারিখ এবং স্ক্রিনে থাকা ক্যাপচা কোডটি হুবহু দেখে দেখে লিখে দিন। 

৪. এরপর "অনুসন্ধান" বাটনে ক্লিক করুন। নিচে আপনার নাম ও তথ্য চলে আসলে "নির্বাচন করুন" অপশনে ক্লিক করে কনফার্ম করুন।

গুরুত্বপূর্ণ নোট: একটি জন্মনিবন্ধন সর্বোচ্চ ৩ বার সংশোধন আবেদন করা যায়। কোনো কারণে প্রথমবার বাতিল হলে আপনি আর ২ বার সুযোগ পাবেন।

দ্বিতীয় ধাপ: সংশোধনের বিষয় ও সঠিক তথ্য নির্বাচন

এই ধাপে আপনার যে যে বিষয়ে সমস্যা, সেগুলো একে একে যুক্ত করতে হবে। আমাদের আজকের আবেদনে আমরা নিচের বিষয়গুলো সংশোধন করছি:

  • পিতার নাম (বাংলা): আইডি কার্ড অনুযায়ী "মোহাম্মদ" বাদ দিয়ে সঠিক নাম লিখুন এবং ডানপাশের কারণ হিসেবে "ভুল লিপিবদ্ধকরণ" সিলেক্ট করুন।

  • মাতার নাম (বাংলা): আইডি কার্ড অনুযায়ী "মুসাম্মত" বাদ দিয়ে সঠিক নাম লিখুন এবং কারণ হিসেবে "ভুল লিপিবদ্ধকরণ" সিলেক্ট করুন।

  • পিতার নাম ও মাতার নাম (ইংরেজি): ইংরেজিতে তাদের সঠিক নাম টাইপ করুন।

  • নিজের নাম (ইংরেজি): ভোটার আইডি কার্ড ভালোভাবে লক্ষ্য করে আপনার নামের প্রথম অংশ (First Name) এবং শেষ অংশ (Last Name) ইংরেজিতে লিখুন।

নোট: যে অপশনগুলো আপনার প্রয়োজন নেই বা ভুল নেই, সেগুলো ডিলিট করে দিন।

তৃতীয় ধাপ: ঠিকানা পূরণ (বাংলা ও ইংরেজি)

এবার আপনার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা দিতে হবে:

১. প্রথমে আপনার বিভাগ, জেলা, উপজেলা/সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা/ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড নম্বর সঠিকভাবে সিলেক্ট করুন। 

২. ডাকঘর এবং গ্রামের নাম প্রথমে বাংলায় এবং তারপরের বক্সে ইংরেজিতে সুন্দর করে লিখুন (গ্রামের নামের পর একটি কমা দিতে পারেন)। 

৩. আপনার জন্মস্থানের ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানা যদি একই হয়, তবে "স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা একই কিনা?"—এই টিকমার্কে ক্লিক করলেই সবগুলো অটোমেটিক পূরণ হয়ে যাবে।

চতুর্থ ধাপ: প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট বা প্রমাণপত্র আপলোড

যেহেতু এখানে বয়সের কোনো ভুল নেই, তাই সাধারণ কিছু ডকুমেন্ট দিলেই সংশোধন হয়ে যাবে।

১. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): আপনার এনআইডি কার্ডটি আগে থেকেই স্ক্যান করে রাখুন। File Upload এ ক্লিক করে সেটি সিলেক্ট করুন এবং ডকুমেন্টের ধরন হিসেবে "নিবন্ধন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র" সিলেক্ট করে Start বাটনে ক্লিক করুন। 

২. হাতে লেখা জন্মনিবন্ধন: আপনার কাছে যদি পুরোনো হাতে লেখা জন্মনিবন্ধনের কপি থাকে, তবে সেটিও একইভাবে আপলোড করে দিন। (যাদের কাছে হাতে লেখা কপিটি নেই, তারা না দিলেও কোনো সমস্যা নেই।) 

৩. আপনার যদি সার্টিফিকেট বা পাসপোর্ট থাকে, তবে সেটিও যুক্ত করতে পারেন। তবে ইংরেজি করার জন্য সাধারণত খুব বেশি জটিল ডকুমেন্টের প্রয়োজন হয় না।

পঞ্চম ধাপ: ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশন ও সাবমিট

১. আবেদনের নিচের অংশে "আবেদনকারীর তথ্য" হিসেবে "নিজে" সিলেক্ট করুন। 

২. আপনার সচল একটি মোবাইল নম্বর দিন এবং "ওটিপি পাঠান" বাটনে ক্লিক করুন। 

৩. আপনার মোবাইলে একটি ওটিপি কোড চলে যাবে। কোডটি নির্দিষ্ট বক্সে বসিয়ে "সাবমিট" (Submit) বাটনে ক্লিক করুন।

অভিনন্দন! আপনার আবেদনটি সফলভাবে সাবমিট হয়েছে। স্ক্রিনে একটি "আবেদন নম্বর" (Application ID) দেখতে পাবেন। এটির একটি স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন অথবা নম্বরটি ডায়েরিতে লিখে রাখুন। এটি পরবর্তীতে খুবই প্রয়োজন হবে।

শেষ ধাপ: ইউনিয়ন পরিষদ ও পরবর্তী করণীয়

  • অনলাইন আবেদন শেষে এই কপিটি বা আবেদন নম্বরটি নিয়ে আপনার নির্দিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে চলে যান।

  • সেখানকার ডিজিটাল সেন্টারের কম্পিউটার অপারেটর বা উদ্যোক্তার কাছে এটি দিলে তারা সিস্টেমে চেক করে একটি সরকারি রসিদ কেটে দেবে (বয়স ও সংশোধনের ধরনভেদে ফি ৫০ থেকে ১০০ টাকা বা তার কম-বেশি হতে পারে)।

  • তারা আপনাকে মূল আবেদনপত্রের একটি প্রিন্ট কপি সই-সিল দিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

  • অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ফাইলটি অনুমোদনের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে (UNO Office) পাঠানো হয়। ইউনিয়ন পরিষদ থেকেই আপনাকে প্রসেসটি বলে দেবে এবং ২-৩ কার্যদিবসের মধ্যে এটি সাধারণত সম্পন্ন হয়ে যায়। কিছু কিছু ইউনিয়নে এটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকেই সরাসরি সমাধান করে দেওয়া সম্ভব হয়।

জন্মনিবন্ধন সংশোধন নিয়ে আপনাদের আরও কোনো প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে লিখে জানাবেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। এই পোস্ট ভালো লাগলে একটি লাইক দিন এবং চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে পাশে থাকুন। সবাই ভালো থাকুন, আল্লাহ হাফেজ!

চাইলে আমাদের ইউটিউভ চ্যানেল হতে ভিডিও দেখতে পারেন। ভিডিও লিংক- https://youtu.be/GOfJzu5hv3A

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url