অনলাইনে এনআইডি (NID) বা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের সহজ উপায় (ধাপে ধাপে গাইড)
জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি (NID) কার্ডের ভুলভ্রান্তি নিয়ে দুশ্চিন্তার দিন শেষ! এখন আর নির্বাচন কমিশন অফিসে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। ঘরে বসেই আপনার স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের মাধ্যমে খুব সহজে অনলাইন প্রক্রিয়ায় এনআইডি সংশোধন করতে পারবেন।
আজকের গাইডে আমরা জানবো অনলাইনে এনআইডি তথ্য সংশোধনের সম্পূর্ণ ৫টি ধাপ।
আবেদন করার পূর্বে যা যা প্রস্তুত রাখবেন:
আপনার এনআইডি (NID) কার্ড নম্বর ও সঠিক জন্ম তারিখ।
আপনার সচল মোবাইল নম্বর (ওটিপি ও মেসেজ পাওয়ার জন্য)।
গুগল প্লে স্টোর থেকে ইনস্টল করা NID Wallet অ্যাপ।
প্রমানস্বরূপ প্রয়োজনীয় স্ক্যান করা ডকুমেন্ট (যেমন: জন্মনিবন্ধন, এসএসসি/সমমান সনদ, পাসপোর্ট ইত্যাদি—সাইজ সর্বোচ্চ ১ মেগাবাইট)।
বিকাশ/রকেট অ্যাপ (আবেদন ফি পরিশোধের জন্য)।
ধাপ ১: এনআইডি পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন
যেকোনো ব্রাউজার ওপেন করে
ঠিকানায় প্রবেশ করুন।services.nidw.gov.bd "রেজিস্ট্রেশন করুন" অপশনে ক্লিক করুন।
আপনার এনআইডি নম্বর, জন্ম তারিখ এবং স্ক্রিনে প্রদর্শিত ক্যাপচা (Captcha) কোডটি সঠিকভাবে বসিয়ে "সাবমিট" করুন।
এরপর আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা (বিভাগ, জেলা, উপজেলা) নির্বাচন করুন।
প্রদত্ত মোবাইল নম্বরে আসা ৬ সংখ্যার ওটিপি (OTP) কোডটি বসিয়ে পরবর্তী ধাপে যান। (মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করতে চাইলে পরিবর্তন করে নিতে পারেন)।
ধাপ ২: চেহারা ভেরিফিকেশন (Face Verification)
আপনার মোবাইলের গুগল প্লে-স্টোর থেকে NID Wallet অ্যাপটি ইনস্টল করুন।
ওয়েবসাইটের কিউআর (QR) কোডটি NID Wallet অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করুন।
অ্যাপের নির্দেশনামতো চোখের পলক ফেলুন, ধীরে ধীরে বামে ও ডানে তাকিয়ে চেহারা ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন।
ভেরিফিকেশন সফল হলে পোর্টালে আপনার প্রোফাইল দেখা যাবে। পরবর্তীতে সহজে লগইন করার জন্য একটি পাসওয়ার্ড সেট করে নিন।
ধাপ ৩: তথ্য সংশোধন ও আবেদন প্রক্রিয়া
প্রোফাইলে প্রবেশ করে "এডিট" অপশনে ক্লিক করুন।
আপনার নাম, পিতার নাম, মাতার নাম বা জন্ম তারিখের মধ্যে যেখানে ভুল রয়েছে, সেই সংশ্লিষ্ট বক্সটিতে টিক চিহ্ন দিয়ে সঠিক তথ্যটি লিখে দিন।
তথ্য পুনরায় যাচাই করে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যান।
ধাপ ৪: সরকারি ফি পরিশোধ
আবেদনের ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন (যেমন: জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন / NID Info Correction)।
আপনার বিকাশ অ্যাপে প্রবেশ করে 'পে বিল' (Pay Bill) > 'সরকারি ফি' > 'NID Service' নির্বাচন করুন।
প্রথমবার আবেদনের জন্য নির্ধারিত ফি (সাধারণত ২৩০ টাকা বা ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্রযোজ্য ফি) বিকাশ পিন দিয়ে জমা দিন।
পেমেন্ট সম্পন্ন হলে ব্রাউজারের পেজটি রিফ্রেশ করলে অ্যামাউন্ট আপডেট দেখাবে।
ধাপ ৫: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড ও সাবমিট
সংশোধনের সপক্ষে প্রমান হিসেবে জন্মনিবন্ধন, এসএসসি সনদ বা পাসপোর্টের স্ক্যান কপি ফাইল নির্বাচন করে আপলোড করুন।
সমস্ত তথ্য ও ডকুমেন্টের তালিকা পুনরায় মিলিয়ে দেখে "সাবমিট" বাটনে ক্লিক করুন।
আবেদন জমা হওয়ার সাথে সাথে প্রোফাইল থেকে আবেদন ফরমের পিডিএফটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করুন।
আবেদন জমা দেওয়ার পর করণীয়:
আপনার আবেদনটি প্রক্রিয়াধীন থাকবে এবং অনুমোদন পেলে ১০৫ (105) নম্বর থেকে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
যদি ১ থেকে ২ মাসের মধ্যেও কোনো আপডেট না পান, তবে ডাউনলোড করা আবেদন ফরম ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের কপি নিয়ে আপনার সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিসে যোগাযোগ করুন।
পরামর্শ: আবেদনের সঠিকতা বজায় রাখতে এবং রিজেক্ট হওয়া এড়াতে প্রয়োজনীয় সমকক্ষ সব ধরনের ডকুমেন্ট আপলোড করার চেষ্টা করুন।
